নিউজ ডেস্ক:
সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় মৌলভীবাজারে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোতে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী ও আকস্মিক চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ পাচার রোধ, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করছে। শ্রীমঙ্গলের তিনটি ডিপোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সরাইল রিজিয়নের অধীনে সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জসহ পাঁচ জেলার ১০টি তেল ডিপো এবং সারাদেশে মোট ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন ১১৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বাড়তি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত তেল বহন করে পাচারের কোনো সুযোগ না থাকে।
বিজিবির এ সমন্বিত উদ্যোগে জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে এবং জনমনে আস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, শ্রীমঙ্গলের তিনটি ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা ৫১ লাখ ২০ হাজার লিটার। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে, যা নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
শেষে সবাইকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Post a Comment